কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার অন্তত ১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারপাশে তামাক চাষ ও তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। এসব বিদ্যালয়ের আশপাশে অন্তত ১১০টি তামাকচুল্লিতে পাতা শুকানোর কাজ চলছে। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন বইয়ের পাশাপাশি তামাকের উৎকট গন্ধ ও দূষিত বাতাসে শ্বাস নিতে বাধ্য হচ্ছে।
সরেজমিনে চকরিয়ার কাকারা, ফাঁসিয়াখালী, বমু বিলছড়ি, বরইতলী ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও শ্রেণিকক্ষের দেয়াল ঘেঁষে তামাকখেত, আবার কোথাও বিদ্যালয়ে ঢোকার পথের দুই পাশে বিস্তৃত তামাকের চাষ। তামাক কাটার মৌসুমে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে না গিয়ে পরিবারের সঙ্গে তামাকের কাজে যুক্ত হচ্ছে। শ্রমিক ভাড়া করার সামর্থ্য না থাকায় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের তামাক কাটা ও আঁটি বাঁধার কাজে ব্যবহার করছেন।
চিকিৎসকদের মতে, তামাক চাষে ব্যবহৃত কীটনাশক শিশুদের স্নায়ুতন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তামাকপাতার নিকোটিন ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে ‘গ্রিন টোব্যাকো সিকনেস’ তৈরি করতে পারে, যার ফলে বমি ও মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘ মেয়াদে এটি শিশুদের শারীরিক বিকাশ ব্যাহত করতে পারে।
তামাক চাষের প্রভাবে স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তামাক চাষে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি কমছে এবং পাশের জমির অন্যান্য ফসলের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়া বৃষ্টির পানির মাধ্যমে এসব রাসায়নিক মাতামুহুরী নদী ও জলাশয়ে মিশে জলজ প্রাণীর ক্ষতি করছে।
পরিবেশকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে তামাক চাষ বন্ধে কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চকরিয়ায় ১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারপাশে তামাক চাষ ও তামাকচুল্লির কারণে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। পড়াশোনা বাদ দিয়ে অনেক শিশু তামাকের কাজে জড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
সূত্র: প্রথম আলো

0 Comments