সিবি ডেক্স: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলাল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা জানান, আসামি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মতি দিলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে গত ১৫ এপ্রিল আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
মামলার তদন্তে জানা গেছে, হাদি হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয় এবং মাইক্রো অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে এর সিরিয়াল নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ২০১৭ সালে আমদানি করা অস্ত্রটি রাজধানীর পুরানা পল্টনের এম আইচ আর্মস কোং থেকে চকবাজারের ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্সের কাছে বিক্রি করা হয়। পরে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেখান থেকে চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোংয়ের কাছে যায়।
তদন্তে আরও জানা যায়, হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোংয়ের মালিক মাজেদুল হক হেলাল, যার লাইসেন্স নম্বর ৪৫/৪৮। পূর্বে এটি তার বাবা হামিদুল হকের নামে থাকলেও ২০০০ সালে তার নামে হস্তান্তর করা হয়। তবে লাইসেন্সটি ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নবায়ন করা ছিল, এরপর আর নবায়ন করা হয়নি। লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই অস্ত্রটি কেনা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, ওই অস্ত্রটি কীভাবে মূল আসামিদের হাতে পৌঁছায়, তা উদ্ঘাটনের জন্য হেলালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন ছিল।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
0 Comments