হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ রামু প্রতিনিধি মোঃ সাইদুজ্জামান সাঈদ, দৈনিক কক্সবাজার বার্তা ও প্যানোয়া নিউজের রামু প্রতিনিধি উচ্ছ্বাস বড়ুয়া,সিসিএন নিউজ রামু প্রতিনিধি মোঃ কাসেম, কোহেলিয়া টিভি রামু প্রতিনিধি সিরাজুল মোস্তফা আবির।
আহত সাংবাদিকরা বলেন, বিগত কয়েকদিন যাবৎ কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবেশ বিধ্বংসী ফসলি জমির টপসঅয়েল ও পাহাড়ের মাটি স্কেভেটার দিয়ে কেটে ডাম্পারযোগে পাচারকালে এলাকার রাস্তাঘাট ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় এলাকাবাসী নিষেধ করে। পরবর্তীতে অভিযুক্ত আব্দুল মালেক নিষেধ অমান্য করছেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় ৪ সাংবাদিক সরেজমিনে গিয়ে ভিডিও ও ছবি ধারণ করার সময় অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটার শ্রমিকেরা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পাহাড় খেকো মূলহোতা আব্দুল মালেক। এসময় তিনি 'সব দুই টাকার সাংবাদিক' বলে নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হামলা শুরু হয়। প্রথমে সাংবাদিকদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভাংচুর ও পরে গিয়ে মারধর করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্ত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে রামু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করে।
ঘটনার বিষয়ে ডাকাত মালেককে ১নাম্বার আসামী করে ৪জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে রামু থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১নং আসামী আব্দুল মালেক প্র: ডাকাত মালেক মায়ানমারের গরু চোরা চালান, ডাকাতি, হত্যা, সরকারি কর্মচারীর উপর হামলা, ইয়াবা পাচার ও পাহাড় কাঁটাসহ মোট ১০টির অধিক মামলার আসামী।
কাউয়াখোপের নাপিতের ঘোনা এলাকার চিহ্নিত বালুদস্যু ও পাহাড়খেকো সন্ত্রাসী আব্দুল মালেক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ ধ্বংস করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
পরিবেশ আন্দোলন বাপা রামু উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সায়েদ জুয়েল বলেন, যারা অবৈধ ভাবে মাটি কাটছে তারা দেশের শত্রু, জাতির শত্রু। যারা সংবাদকর্মীদের উপর হামলা করেছে আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং তাদের আইনের আওতায় আনা দাবী জানাচ্ছি।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির ইসলাম ভূইয়া বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি বুধবার বিকেলে জেনেছি। অবশ্যই হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ব্যাপারে রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে রাব্বি চৌধুরী বলেন, মামলা হয়েছে থানা ব্যবস্থা নিবে। আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট করে থাকি কোথায় মাটি কাটা হচ্ছে তথ্য দেন আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি৷
সচেতন মহলের অভিযোগ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতিনিয়ত ফসলি জমির টপস অয়েল ও পাহাড় কেটে যাচ্ছে একটি সিন্ডিকেট।
0 Comments