কিশোরগঞ্জে ছিনতাই অপবাদে যুবককে পেটানোর অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

কিশোরগঞ্জে ছিনতাইয়ের অপবাদ দিয়ে আব্দুল হাকিম নামে এক যুবককে জনসমক্ষে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা বাবুল মিয়া (৩৮) এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২৮ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন নিঝুম হোটেলে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশে খবর দিয়ে ছিনতাই মামলায় হাকিমকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত বাবুল মিয়া লতিবাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক।

জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি সকালে লতিবাবাদ ইউনিয়নের কাটাবাড়িয়া এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে আব্দুল হাকিমকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ডেকে নিয়ে যান বাবুল মিয়া। পরে সেখানে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাকে জনসমক্ষে মারধর করা হয়। মারধরের পর কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশকে খবর দিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

মোবাইলে ধারণ করা ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাবুল মিয়া আব্দুল হাকিমকে মাটিতে ফেলে ধরে রেখেছেন। এ সময় আরেক যুবদল নেতা পাভেল (৩৫) লোহার পাইপ দিয়ে তাকে পেটাচ্ছেন। মারধরের সময় হাকিম চিৎকার করছেন এবং আশপাশে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল মালেক অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাবুল মিয়া ও তার লোকজন পাসপোর্ট অফিস এলাকায় হোটেল ব্যবসার আড়ালে দালালি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। তার ছেলেকেও এ কাজে জড়াতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। রাজি না হওয়ায় তাকে পথরোধ করে নিঝুম হোটেলে নিয়ে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাবুল মিয়া বলেন, পাসপোর্ট অফিসের কাছে তার ‘নিঝুম হোটেল’ রয়েছে। তার দাবি, হোটেলের এক কর্মচারীর কাছ থেকে টাকা ছিনতাই করেছিল আব্দুল হাকিম। এ কারণে তাকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে ঘটনাটি ঘটে।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম ভূইয়া বলেন, ২৮ জানুয়ারি ছিনতাইয়ের অভিযোগে স্থানীয়রা আব্দুল হাকিমকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। ঘটনার পর হাকিমের বাবা নির্যাতনের অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন।

Post a Comment

0 Comments