মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, তেল-গ্যাসের দামে বড় উল্লম্ফন

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালানোয় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এতে তেল ও গ্যাসের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি তাদের স্থাপনায় হামলার পর উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করলে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে তা কিছুটা কমে প্রায় ৭৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম প্রায় ৭.৬ শতাংশ বেড়ে ৭২.২০ ডলারে দাঁড়ায়।

হরমুজ প্রণালীর কাছে জাহাজে হামলার ঘটনার পর এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এ প্রেক্ষাপটে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের এই নৌপথে জাহাজ চলাচল না করার জন্য।

সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের ডাও জোন্স, নাসডাক ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক নিম্নমুখী ছিল। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচকও প্রায় ১ শতাংশ কমে যায়। পাশাপাশি বার্কলেস, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও এইচএসবিসি-এর মতো ব্যাংকের শেয়ারদরও কমে যায়।

ইউরোপের বাজারেও বড় পতন দেখা গেছে। ফ্রান্সের সিএসি-৪০ সূচক ১.৮ শতাংশ এবং জার্মানির ড্যাক্স সূচক প্রায় ২.১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

এদিকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫,৩৮৮ ডলারে পৌঁছেছে।

কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরীতে ড্রোন হামলার পর এলএনজি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের রাস তানুরায় অবস্থিত প্রধান তেল শোধনাগারেও হামলার পর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনরায় শুরু না হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

Post a Comment

0 Comments