কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রথম চলচ্চিত্র উৎসবের জমকালো সূচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পর্দা উঠলো ১ম কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসবের। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হলো কক্সবাজারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয় কতৃক নিবন্ধিত একমাত্র চলচ্চিত্র সংসদ ‘কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাব’ এর। কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাব আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছে ১টি প্রামাণ্যচিত্র, ৫টি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা এবং ১টি ইংরেজি চলচ্চিত্র।

২৭ মার্চ, শুক্রবার উদ্বোধনী বিকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র নির্মাতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যটকদের দেশীয় চলচ্চিত্রের এক মিলন মেলায় পরিণত হয়।
উদ্বোধনী দিনে লাবণী পয়েন্ট সৈকতের উন্মুক্ত মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসব উদ্বোধন করেন কক্সবাজার ৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ শাহজাহান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার পৌর প্রশাসক ইমরান হোসেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম। তাসনোভা তাশরীন লাবণ্য ও জে এস সাহেদের সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, চলচ্চিত্র অভিনেতা ও সংগীত শিল্পী এডভোকেট আবু হায়দার ওসমানী, কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মন্নান, কক্সবাজার জেলা সংগীত শিল্পী পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ বেতারের সংগীত প্রযোজক বশিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ও ব্যারিস্টার ্আবুল আলা ছিদ্দিকী, পর্যটন মোটেল শৈবালের ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন আহমেদ, ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস.এম কিবরিয়া খান, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক এবং বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র ডট এর অভিনেতা বড়ুয়া মনোজিত ধীমন, চলচ্চিত্র পরিচালক ও মধ্যবিত্ত ছবির পরিচালক তানবীর হাসান, চলচ্চিত্র পরিচালক ও ছায়াবৃক্ষ ছবির পরিচালক বন্ধন বিশ^াস, অভিনেত্রী এলিনা শাম্মী, অভিনেতা ওমর মালিক, কন্ঠশিল্পী জে এস সাহেদ, অভিনেত্রী লাবণ্য, সাংবাদিক সাইমুন আমিনসহ সহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন, কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক তুলে দেন কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের সহ-সভাপতি পূর্ণ বর্ধন বড়ুয়া, সাধারন সম্পাদক ওসমান সরওয়ার। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন, কক্সবাজার ফিল্মক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক স্বপন দে, অর্থ সম্পাদক মো: রমজান, নির্বাহী সদস্য ওমর ফারুক সোহাগ, সুমন চন্দ্র দেসহ সংগঠনের কর্মকর্তাবৃন্দ।
সম্মাননা প্রদান শেষে প্রামাণ্য চিত্র প্রদশর্নের মাধ্যমে চলচ্চিত্র উৎসবের শুভ সূচনা করা করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, বড় পর্দায়, খোলা আকাশের নিচে, একসঙ্গে বসে একটি গল্প দেখা, এ সহজ অথচ গভীর অভিজ্ঞতাই এখানে মূল আকর্ষণ। ছোট পর্দায় সিনেমা দেখার এ যুগে বাংলা সিনেমা বড় পর্দায় ফিরিয়ে আনাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আগামী বছর থেকে উৎসবের পরিসর বাড়ানো হবে।
তিনি আরো বলেন, কক্সবাজার এতদিন বেবল পর্যটনের শহর হিসেবে পরিচিত ছিল, তবে ধীরে ধীরে এটি নিজেকে গড়ে তুলছে একটি সম্ভবনাময় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের প্রত্যাশা, এ আয়োজন ধারাবাহিকতা পেলে এ সৈকতই হয়ে উঠতে পারে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজনের অংশ হিসেবে কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাব নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র, বন্ধন বিশ^াস পরিচাতি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র ‘ছায়াবৃক্ষ’, অপূর্ব রানা পরিচালিত ‘জল রং’ ও বড়ুয়া সুনন্দা কাকন পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য ইংরেজি চলচ্চিত্র ‘ডট’ প্রদর্শন করা হয়।
কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ছায়াবৃক্ষ’ চা শ্রমিকদের জীবন সংগ্রাম ও বঞ্চনার গল্প নিয়ে নির্মিত। বন্ধন বিশ^াস পরিচালিত এ সিনেমায় প্রথমবারের মতো নিরব ও অপু বিশ^াস জুটিবদ্ধ হয়েছেন। দেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রসংশিত হয়েছে।
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড এর ব্যানারে অপূর্ব রানা পরিচালিত জল রং মানব পাচারের বাস্তব জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়। এতে অভিনয় করেছেন সাইমন সাদিক ও নবাগত উষ্ণ হক। প্রযোজনায় দেলোয়ার হোসেন দিলু।
বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র ‘ডট’। নারী পাচারে মতো সামাজিক সমস্যা নিয়ে এ ছবিতে অভিনয় করেছেন বড়ুয়া মনোজিত ধীমন, স্মৃতি বিশ^াস পরী, কামরুল ইসলাম, মিষ্টি মনি প্রমূখ। প্রযোজনায় বড়ুয়া মনোজিত ধীমন। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ডট’ চলচ্চিত্রটি ব্যাপক প্রসংশিত হয়েছে।
উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানটি চলচ্চিত্র নির্মাতা বিশিষ্ট অতিথি ও গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে এক উষ্ণ ও প্রাণবন্ত পরিবেশে শেষ হয়।
উৎসব চলকালীন প্রতিদিন সন্ধ্যায় লাবণী সৈকত উন্মুক্ত মঞ্চে তিনটি করে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে, যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
২৮ মার্চ, শনিবার উৎসবের সমাপণী দিনে দর্শকরা দেখবেন সবুজ খান পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বেহুলা দরদী’, মোস্তাফিজুর রহমান বাবু পরিচালিত ‘ময়নার চর’ এবং তানবীর হাসান পরিচালিত ‘মধ্যবিত্ত’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে উৎসবের পর্দা নামবে।
১ম কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬ এর সহযোগিতায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এবং ঢাকা ফিল্ম ক্লাব।

Post a Comment

0 Comments