জামায়াত নেতাদের সন্তানদের সংসদে জায়গা, আলোচনায় কাদের মোল্লার কন্যা

সিবি ডেক্স: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যেসব নেতা সংগঠনের জন্য মৃত্যুদণ্ড বা কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের কয়েকজনের সন্তান এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জায়গা পেয়েছেন। 

স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রথম ফাঁসি কার্যকর করা হয় জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার। পরবর্তীতে একই ধারায় ফাঁসি কার্যকর করা হয় মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং মীর কাসেম আলীর। এছাড়া জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

এদের মধ্যে কামারুজ্জামান ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সন্তানরা নির্বাচনে অংশ না নিলেও উচ্চকক্ষ নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন আলী আহসান মাবরুর। অন্যদিকে জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন পাবনা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর সদর, ইন্দুরকানী ও নাজিরপুর) আসন থেকে সাবেক নায়েবে আমির দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর ছোট ছেলে আল্লামা মাসুদ সাঈদী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা-১৪ আসন থেকে জামায়াতের সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান সংসদ সদস্য হয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে জামায়াতে ইসলামী ১১টি আসন পেতে পারে। এসব আসনে কারা মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। আলোচনায় রয়েছেন আব্দুল কাদের মোল্লার কন্যা আমাতুল্লাহ শারমীন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সদস্য সচিব এবং মেডিকেল থানার কর্মপরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জামায়াত ও মহিলা বিভাগের মধ্যে আমাতুল্লাহ শারমীনের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং ৫ আগস্টের পরও টকশো ও রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তৃণমূল জামায়াতের একটি বড় অংশ মনে করছে, শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিত্ব এবং সংগঠনের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে আমাতুল্লাহ শারমীনকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আগামী ১২ তারিখে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। তার আগেই দলের ভেতরে আলোচনার মাধ্যমে একটি ধারণা চূড়ান্ত করা হবে। এরপর সংরক্ষিত আসনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে।

Post a Comment

0 Comments