এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হত্যাসহ পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আইভী। তবে ওই দিনই পুলিশ তাকে দেড় বছর আগের সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। এটি তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১১তম মামলা।
সোমবার নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা আক্তারের আদালত তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। সেদিনও গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবীরা, তবে সেটিও নাকচ হয়।
সাবেক মেয়রের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে তারা জেলা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করবেন। সেখানেও আবেদন নাকচ হলে তারা হাইকোর্টে যাবেন।
২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় একটি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সিদ্ধিরগঞ্জ শাখায় ইন্টেরিয়র কাজ চলছিল। আগুনে ব্যাংকের ভেতরে আটকা পড়ে ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের কাজে নিয়োজিত মিস্ত্রী সেলিম মণ্ডলসহ তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় ২০২৫ সালের ৩০ জুন ওয়াজেদ আলী নামে এক ব্যক্তি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আইভীকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
এ নিয়ে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে জেলার বিভিন্ন থানায় দায়ের করা ১১টি মামলায় আইভীকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় ইতোমধ্যে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন তিনি। আরও পাঁচটি মামলার জামিন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলার এজাহারে সাবেক মেয়রের নাম নেই। শুধু হয়রানির উদ্দেশ্যে এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।
২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে শহরের দেওভোগ এলাকায় নিজ বাসভবন চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।
0 Comments