শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১১টায় পেকুয়া উপজেলা পরিষদের হলরুমে আরটিআই ইয়ুথ ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরটিআইয়ের অধীনে পরিচালিত ৯টি ট্রেডের ২০টি ব্যাচের প্রায় ৩৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল সুশৃঙ্খল, প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং আরটিআইয়ের চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলার উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন, ইউএনডিপির আইজেক প্রজেক্টের ন্যাশনাল কনসালটেন্ট রোজিনা আক্তার, কেএসডিএস-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট হেফাজ উদ্দিন, আরটিআই চকরিয়া শাখার পরিচালক নাইফ রাজ এবং পেকুয়া শাখার পরিচালক মোহাম্মদ তাজবিদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে বেকারত্ব হ্রাসের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা সময়ের দাবি। আরটিআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তরুণদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের প্রশিক্ষণকালীন অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। অনেকেই জানান, এ প্রশিক্ষণ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে নিজস্ব কর্মসংস্থান তৈরির স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ইসলামী সংগীত, বক্তব্য ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া উপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সকল প্রশিক্ষণার্থী, অতিথি ও আয়োজকদের অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি এবং প্রশিক্ষণার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়।
আয়োজকরা জানান, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
0 Comments