হাতিয়ায় ধর্ষণ অভিযোগে মেডিকেল বোর্ড গঠন

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করা এক নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পুলিশের অনুরোধে সোমবার এ বোর্ড গঠন করা হয়। এর আগে নারীর মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে হাতিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ধর্ষণের অভিযোগে কোনো ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা পুলিশের রিকুইজিশন ছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে করা যায় না। জিডির আলোকে পুলিশ চাহিদাপত্র পাঠালে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

বোর্ডে প্রসূতিবিশেষজ্ঞ শিরিন সুলতানা এবং চিকিৎসক ফাতেমা জোয়ান মুনিয়া ও তাহমিনা আক্তার রয়েছেন। সোমবার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ভর্তি হওয়ার দিন সংরক্ষিত আলামত মেডিকেল কলেজের পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মতামতসহ চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়া হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, ভুক্তভোগী সময় নিচ্ছেন এবং তার নিরাপত্তায় হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

শনিবার বেলা দুইটার দিকে ওই নারী প্রথমে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে জরুরি বিভাগে গিয়ে অভিযোগ করেন, আগের রাত ১১টার দিকে নিজ এলাকায় তিনি ধর্ষণের শিকার হন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তিন ব্যক্তি তার স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করেন।

অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ওই রাতে এলাকায় মারামারির ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং এর প্রমাণও রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জেলা শাখার পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা প্রচার’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, একটি সমসাময়িক ঘটনাকে ধর্ষণের ঘটনায় রূপান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।

Post a Comment

0 Comments