মোট ৬৩ হাজার ৬১৫ জনের মতামত নিয়ে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ৪৪ দশমিক ১০ শতাংশ ভোটার বিএনপি সমর্থিত জোটকে এবং ৪৩ দশমিক ৯০ শতাংশ ভোটার জামায়াত সমর্থিত জোটকে ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জাতীয় পার্টির পক্ষে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ ভোটার মত দিয়েছেন। এছাড়া ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পল্টনের একটি রেস্তোরাঁয় ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: প্রাক-নির্বাচনি জনমত জরিপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহীন জরিপের ফল তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রতিটি আসন থেকে সর্বনিম্ন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ জনের মতামত নেওয়া হয়েছে; অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ পুরুষ, এবং ৪২ দশমিক ৪১ শতাংশ নারী।
জরিপ অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে ৪৬ শতাংশ ভোটার বিএনপি সমর্থিত জোটকে এবং ৪২ শতাংশ জামায়াত সমর্থিত জোটকে সমর্থন দিয়েছেন; গ্রামাঞ্চলে বিএনপি সমর্থিত জোটকে ৪৩ শতাংশ এবং জামায়াত সমর্থিত জোটকে ৪৫ শতাংশ ভোটার সমর্থন জানিয়েছেন। আসন বিশ্লেষণে জামায়াত সমর্থিত জোটের সম্ভাব্য জয় ১০৫টি এবং বিএনপি সমর্থিত জোটের ১০১টি আসনে সম্ভাবনা দেখা গেছে, আর ৭৫টি আসনে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস রয়েছে। ১৯টি আসনে স্বতন্ত্র বা অন্যান্য দল বিজয়ী হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
জরিপে আরও দেখা গেছে, ৯২ দশমিক ৯০ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে আগ্রহী, ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ ভোট দেবেন না এবং ২ দশমিক ৭০ শতাংশ সিদ্ধান্ত জানাননি। নির্বাচনের পর সরকারের কাছে ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ; মূল্যস্ফীতি কমিয়ে দ্রব্যমূল্য হ্রাসে ৬৭ শতাংশ ভোটার গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, চাকরির নিশ্চয়তা ও বিভিন্ন সংস্কারকেও অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ৭১ শতাংশ ভোটার প্রার্থীর যোগ্যতাকে প্রধান বিবেচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন; ৪৭ শতাংশ দলীয় মনোনয়নকে গুরুত্ব দেন এবং ৩৬ শতাংশ ভোটার দলের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় ভোট দিতে চান। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জুলাই চেতনা বিবেচনায় নেওয়ার কথাও জরিপে উঠে এসেছে।
0 Comments