নথি অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এপস্টেইনের সঙ্গে ইমেইলের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল প্রিন্সেস মেত্তে-মারিতের। এ সময় তাঁদের মধ্যে অসংখ্য ইমেইল আদান–প্রদান হয়, যেগুলোর ভাষা বেশ ঘনিষ্ঠ বলে নরওয়ের গণমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে। উল্লেখ্য, মেত্তে-মারিত ২০০১ সালে নরওয়ের ভবিষ্যৎ রাজা হাকোনকে বিয়ে করেন।
গোপন নথি প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন মেত্তে-মারিত। রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, তিনি খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত। তাঁর ভাষায়, এটি নিঃসন্দেহে লজ্জাজনক।
নথিতে থাকা ইমেইলগুলোতে এপস্টেইনের প্রতি মেত্তে-মারিতের বক্তব্যকে ঘনিষ্ঠ ও আবেগপূর্ণ হিসেবে দেখা যায়। একটি ইমেইলে তিনি লেখেন, ‘তুমি আমার মাথা নষ্ট করে দাও।’ অন্য বার্তায় এপস্টেইনকে ‘কোমল হৃদয়’ ও ‘সুইটহার্ট’ বলে সম্বোধন করেন। ২০১২ সালে তাঁকে ‘খুবই আকর্ষণীয়’ বলেও উল্লেখ করেন মেত্তে-মারিত। এমনকি এক ইমেইলে নিজের কিশোর বয়সী ছেলের কক্ষে কী ধরনের ওয়ালপেপার দেওয়া উচিত, সে বিষয়েও এপস্টেইনের পরামর্শ চেয়েছিলেন তিনি। সেখানে তিনি লেখেন, তাঁর ছেলের বয়স ১৫ বছর এবং তার ঘরে দুজন নগ্ন নারীর ছবি রাখা যাবে কি না, সে বিষয়ে মত জানতে চান।
নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, ২০১৩ সালে ফ্লোরিডার পাম বিচে এপস্টেইনের বাড়িতে চার দিন অবস্থান করেছিলেন মেত্তে-মারিত। তবে নথিতে নাম থাকা মানেই কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে—এমনটি নয় বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নিজের বিবৃতিতে মেত্তে-মারিত বলেন, এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের প্রতি তাঁর গভীর সহমর্মিতা রয়েছে এবং এপস্টেইনের অতীত সম্পর্কে যথাযথভাবে খোঁজ না নেওয়ার দায় তিনি স্বীকার করেন। নথিতে থাকা ২০১১ সালের একটি ইমেইলে দেখা যায়, তিনি এপস্টেইনকে জানিয়েছিলেন যে, গুগলে তাঁর বিষয়ে খোঁজ করে ভালো কিছু পাননি। এই ইমেইলটি বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করেছে।
রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১৪ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে লিখিত যোগাযোগ বন্ধ করেন মেত্তে-মারিত। কারণ তাঁর ধারণা হয়েছিল, এপস্টেইন তাঁর রাজকীয় পরিচয়কে প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, এপস্টেইনের সঙ্গে মেত্তে-মারিতের সম্পর্ক প্রকাশের সময়টি নরওয়ের রাজপরিবারের জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল। কারণ এর পরদিনই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে মেত্তে-মারিতের ছেলে মারিউস বর্গ হইবির ধর্ষণ মামলার বিচার। হইবির বিরুদ্ধে চার নারীকে ধর্ষণসহ মোট ৩৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে মারধর ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ১৬ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। যদিও তিনি ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ছেলের বিচার চলাকালে রাজদম্পতি আদালতে উপস্থিত থাকবেন না বলে জানানো হয়েছে। এ সময় মেত্তে-মারিত ব্যক্তিগত সফরে থাকবেন বলে জানান ক্রাউন প্রিন্স হাকোন। উল্লেখ্য, মারিউস হইবির কোনো রাজকীয় উপাধি নেই এবং তিনি সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নন।
নরওয়ের হবু রানি মেত্তে-মারিতের ব্যক্তিগত জীবনও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া মারিত একসময় ওয়েটার হিসেবে কাজ করেছেন এবং বিয়ে ছাড়াই পুত্রের জন্ম দেন। নব্বইয়ের দশকের শেষদিকে নরওয়ের যুবরাজ হাকোনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ২০০১ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জানা গেছে, রাজপরিবারে বিয়ের প্রায় এক দশক পর এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
0 Comments