‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গণভোটে প্রাথমিকভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জোয়ার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, জনমত স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই ঝুঁকে রয়েছে।

ঢাকার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ২৩টি কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার এই সনদের পক্ষে মত দিয়েছেন। বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এসব কেন্দ্রে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১৭ হাজার ৭১২টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৫ হাজার ৮৮৫টি।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গণভোটে চূড়ান্তভাবে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে বাংলাদেশের সংবিধানে ব্যাপক সংস্কার কার্যকর হবে। প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি অন্যতম। নতুন সনদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য নিয়োগ দিতে পারবেন, যদিও এ বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত পোষণ করেছে।

এছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্যদের গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তাব রয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ গঠনের বিধান কার্যকর হবে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে আসন বণ্টন করা হবে।

সনদে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবেন না। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে অর্থবিল ও অনাস্থা ভোট ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

এছাড়া সংসদের ডেপুটি স্পিকার বাধ্যতামূলকভাবে বিরোধী দল থেকে নির্বাচনের বিধান, বিচার বিভাগীয় সংস্কার, জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকার অক্ষুণ্ন রাখা, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন গঠন পদ্ধতি ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের সম্মতি ছাড়া ক্ষমা প্রদর্শন করা যাবে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরই গণভোটের ভবিষ্যৎ পথনকশা স্পষ্ট হবে।

Post a Comment

0 Comments