বিদায়ী ভাষণে জুলাই সনদ ও অর্থনৈতিক সংস্কারের সাফল্য তুলে ধরলেন ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সরকারের ছোট-বড় সব আলোচনা ভুলে গেলেও ‘জুলাই সনদ’-এর কথা জাতি কখনো ভুলবে না। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার সম্প্রচার করে।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ প্রণয়ন ও গণভোটে পাস করাতে সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও অধিকারভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। তাদের সবাইকে তিনি অভিনন্দন জানান। এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত; ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল এবং অর্থপাচার ছিল লাগামহীন। রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, করনীতি, মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক খাতে কাঠামোগত সংস্কার আনার দাবি করে তিনি বলেন, ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচারের বোঝা ও বিশাল ঋণচাপের মধ্যেও সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ বৃদ্ধি, টিসিবির কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বাজার তদারকি জোরদারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। শ্রমিক অধিকারকে মানবাধিকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুসমর্থন ও নতুন শ্রম আইন প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রবাসীদের সুরক্ষা ও কল্যাণে আইন সংশোধন, বিদেশে আইনি সহায়তা ও নতুন শ্রমচুক্তির উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বন্দর ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কাঠামোয় সংস্কারের মাধ্যমে বড় বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়েছে এবং ব্লু-ইকোনমি খাতে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা জানান।

পররাষ্ট্রনীতিতে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আত্মবিশ্বাসী ও ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি পুনরায় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর এবং জাতিসংঘে বিশেষ সভা আয়োজনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

Post a Comment

0 Comments