কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে স্থানীয় প্রশাসন। দুই উপজেলার ১৭৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও ভোটের মাঠে কোনো শঙ্কা নেই বলে দাবি প্রশাসনের।
প্রশাসনের তথ্যমতে, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৭৭টি। এর মধ্যে ২০টি ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’, ৭৫টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৮২টি ‘সাধারণ’ কেন্দ্র হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। চকরিয়া উপজেলায় ১৩০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ৬১টি ঝুঁকিপূর্ণ। পেকুয়া উপজেলায় ৪৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
চকরিয়া উপজেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—খুটাখালী তমিজিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, সাহারবিল বিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর কাকারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হারবাং ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, হারবাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একতাবাজার উত্তর বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদরখালী আজমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিরিঙ্গা চরণদ্বীপ ভূমিহীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ডুলাহাজারা ডুমখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, চকরিয়ার সব ১৩০টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের শরীরে সংযুক্ত করা হয়েছে ১৩০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের জন্য থানায় ডকিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) অভিজিৎ দাশ বলেন, পর্যাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব যৌথভাবে টহল দেবে। বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে উপজেলা, জেলা ও হেডকোয়ার্টার পর্যায় ছাড়াও নির্বাচন কমিশন সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।
নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার এবং পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুব জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের অভয় দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত তিনজন সশস্ত্র পুলিশসহ বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮৪ হাজার ৪৬৯ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬২০ জন।
এই বিশাল ভোটব্যাংকের রায় পেতে মাঠে রয়েছেন তিন প্রার্থী—বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী তথা ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক (দাঁড়িপাল্লা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা ছরওয়ার আলম কুতুবী (হাতপাখা)।
0 Comments