এমন প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে মনোযোগ টানতে কক্সবাজারে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করছে অন্তর্বর্তী সরকার।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের বিষয়টি নিয়ে ব্রিফ করেছে বাংলাদেশ। এর ধারাবাহিকতায় ২৫ আগস্ট উখিয়ার ইনানীর হোটেল বে-ওয়াচে অনুষ্ঠিত হবে উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলন ‘অংশীজন সংলাপ: রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে প্রাপ্ত বার্তা’।
সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ছাড়াও কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আন্তর্জাতিক দূত, জাতিসংঘের সংস্থা ও বিদেশি কূটনীতিকরা অংশ নেবেন। প্রধান অতিথি থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজীব জানিয়েছেন, ২৪, ২৫ ও ২৬ আগস্ট এই সম্মেলনে পাঁচটি কর্ম অধিবেশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শরণার্থী শিবির প্রদর্শনী থাকবে। আলোচনায় মানবিক সহায়তা বাড়ানো এবং রোহিঙ্গাদের রাখাইনে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। ২৬ আগস্ট অতিথিরা শরণার্থীশিবির পরিদর্শন করবেন।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইসরাইলি আগ্রাসনসহ নানা বৈশ্বিক ঘটনার কারণে রোহিঙ্গা ইস্যু আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব হারিয়েছে। এর মধ্যে রাখাইন রাজ্য আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় প্রত্যাবাসন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ফিরে যাওয়ার আশা প্রায় নিভে গেছে।
তবে বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজারের এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পুনরায় সক্রিয় করতে চায়। পাশাপাশি আসিয়ান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছ থেকে রাজনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
এই সম্মেলনের আলোচনার ভিত্তিতেই তৈরি হবে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের অবস্থানপত্র, যা ডিসেম্বরের দোহা সম্মেলনে আলোচিত হতে পারে।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাদের দমন-নিপীড়ন থেকে প্রাণ বাঁচাতে লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢল নামায়। টানা আট বছর পার হলেও সমাধান না হয়ে বরং সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
0 Comments