Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

রাখাইনে তীব্র সংঘর্ষ, রোহিঙ্গাদের ঢোকার চেষ্টা টেকনাফ সীমান্তে

সিবি ডেক্স: আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। সেখানে আরাকান আর্মি ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে গোলাগুলি চলছে টানা কয়েক রাত। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ সীমান্তেও। নাফ নদীর ওপারে গোলার শব্দ শুনতে পেয়েছেন টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের বাসিন্দারা।

সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাত ১০টা থেকে শনিবার ভোর ৫টা পর্যন্ত রাখাইনের কয়েকটি গ্রামে গোলাগুলি চলে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে কক্সবাজারে রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আগে এই অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হলো।

কক্সবাজারের উপকূলবর্তী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, রাখাইনে থাকা তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন— মংডু টাউনশিপের দক্ষিণে মেরুল্লা এলাকায় জান্তা সেনা নতুন করে মোতায়েন হয়েছে। এতে আতঙ্কে পড়েছে স্থানীয় রোহিঙ্গারা।

এর আগে ১৯ আগস্ট নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে রাখাইনে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলিতে আরাকান আর্মির দুটি সীমান্তচৌকি দখলের চেষ্টা হয়। এরও ১০ দিন আগে একই এলাকায় সংঘর্ষ ঘটে।

রোহিঙ্গা সূত্রগুলো বলছে, শত শত রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে নাফ নদীর ওপারের লালদিয়া দ্বীপে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে, তবে বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে শনিবার দুপুর পর্যন্ত কেউ ঢুকতে পারেনি।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মো. জুবায়ের জানিয়েছেন, “মংডু এলাকায় সেনা ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষের শঙ্কায় রোহিঙ্গারা লালদিয়াতে জড়ো হয়েছে। সুযোগ পেলেই তারা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করবে।”

শরণার্থী মাঝি মোহাম্মদ কালাম বলেন, শুক্রবার সকালে মিয়ানমার নেভির একটি জাহাজে প্রায় ৩০০ জান্তা সেনা মেরুল্লায় অবস্থান নেয়। পরে তারা আরাকান আর্মির একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালায়। এতে কয়েকজন নিহত হয়, বাকিরা পালিয়ে যায়। এরপর আতঙ্কে প্রায় ৭০০ রোহিঙ্গা লালদিয়াতে আশ্রয় নেয়।

তবে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেছেন, তাঁর কাছে এ ধরনের তথ্য নেই। কিন্তু স্থানীয় সূত্রে সীমান্তে বিজিবির টহল ও সতর্কতা বাড়ানোর খবর পাওয়া গেছে।

টেকনাফ ইউএনও শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, নতুন করে অনুপ্রবেশের কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই। তবে সীমান্তবাসীরা জানান, রাতভর গুলি ও গোলার শব্দ শুনেছেন তাঁরা।

বিজিবি-৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জসিম উদ্দিনও নিশ্চিত করেছেন, ওপারে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে এবং বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ১১ আগস্ট একজন আরাকান আর্মির সদস্য একে-৪৭ রাইফেলসহ বাংলাদেশের উখিয়ায় আত্মসমর্পণ করেন। পরে বিজিবি আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। এখন পর্যন্ত বিজিবির হাতে পাঁচজন আটক রয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন মিয়ানমারের নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশি।

Post a Comment

0 Comments