Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

জেলেও সক্রিয় ডাকাত শাহীন! সীমান্তে ফের গরু পাচারের সিন্ডিকেট

সিবি ডেক্স: নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে গরু চোরাচালান সিন্ডিকেট। গ্রেপ্তারের পর কারাগারে থাকা ডাকাত শাহীন এখনও নির্দেশনা দিচ্ছেন বলেই অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অন্তত ২২ সদস্যের একটি সক্রিয় চক্র তার হয়ে সীমান্তে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ৫ জুন যৌথ বাহিনীর এক অভিযানে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ৩১টি বার্মিজ গরু ও একটি ছাগলসহ গ্রেপ্তার হন শাহীন। পরে তার বাড়ি ও আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়। এই অভিযানেই প্রমাণ মেলে—শাহীন কেবল একজন গরু পাচারকারী নন, বরং একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের প্রধান।

তবে গ্রেপ্তার হয়েও থেমে নেই অপকর্ম। জেলে বসেই বিশ্বস্তদের মাধ্যমে সীমান্তে পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন শাহীন। তার হয়ে মাঠে কাজ করছে অন্তত ২২ সদস্যের একটি চক্র। চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছে নিরুপম শর্মা, মাঠ পর্যায়ে নির্দেশ পালন করছে ‘ডাকাত আবছার’। এই আবছার সম্প্রতি অস্ত্রসহ বিজিবির হাতে ধরা পড়েছে।

চোরাচালান বন্ধে বিজিবির কঠোর অভিযানের পর চক্রটি উল্টো আদালতের দ্বারস্থ হয়ে গরুর মালিকানা দাবি করে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। তদন্তে উঠে আসে—আবছার যেখান থেকে গরু জব্দ হয়েছে সেই গর্জনিয়া এলাকার বাসিন্দা নন, বরং রামুর বোমাংখিল গ্রামের বাসিন্দা। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে স্পষ্ট, ভীতি দেখিয়ে মিথ্যা মামলা করানো হয়েছে।

নথিপত্র অনুযায়ী, জব্দ গরুগুলো আদালতের নির্দেশে নিলামে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। কিন্তু সেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়াকে আড়াল করে সিন্ডিকেটটি প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে, জামিন নিশ্চিত করতে ঢাকায় বড় অঙ্কের অর্থ বাজেট করেছে শাহীন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ‘মানবিক’ রূপ উপস্থাপন করে জনমত গড়ার চেষ্টা চলছে।

সিন্ডিকেটের পেছনে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের প্রমাণও মিলেছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, একসময় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে শাহীন। পরবর্তীতে বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে। এই দ্বিমুখী সম্পর্কের কারণেই প্রশাসনের নজরদারির বাইরে দীর্ঘদিন চক্রটি সক্রিয় ছিল।

বিজিবির রামু সেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলে থাকা অবস্থায়ও শাহীনের নির্দেশে সীমান্তে সক্রিয় রয়েছে ২২ জন সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র, যারা মাসুদ ও নিরুপম শর্মার নেতৃত্বে চোরাচালান চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধিক মামলা। চোরাচালান থেকে অর্জিত অর্থে এসব অপরাধীরা গড়ে তুলেছে বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর এমদাদুল হক বলেন, “চোরাচালান দমন অভিযান সফল হলেই অপরাধীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। এতে মনোবল ভেঙে যায়, আর চক্রটি আবার মাথাচাড়া দেয়।”

বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, “শাহীনকে গ্রেপ্তারের পর কিছুদিন চোরাচালান বন্ধ থাকলেও এখন আবার সক্রিয় হয়েছে। আমরা সিন্ডিকেটের সব সদস্যকে চিহ্নিত করেছি। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

Post a Comment

0 Comments