‘আমাদের অঙ্গীকার, পরিচ্ছন্ন কক্সবাজার’ শিরোনামে আয়োজিত এ কর্মসূচি রোববার দুপুরে জেলার জনস্বার্থ প্রকৌশলীর অডিটোরিয়ামে গোলটেবিল আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, কক্সবাজারে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, বরং ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতা অপরিহার্য। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইবনে মায়াজ প্রামাণিক মন্তব্য করেন, শুধু আইন দিয়ে কোনো সুফল আসবে না যদি সাধারণ মানুষ নিজেরাই সচেতন না হয়।
জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্লাস্টিক ও পলিথিন পণ্যের ব্যবহার বন্ধের প্রতি জোর দেন। ব্র্যাকের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, "বাড়িতে আলাদা ডাস্টবিনের ব্যবস্থা থাকলেও মানুষ তা ব্যবহার করছে না, আর সিটি করপোরেশনও আলাদা করে সংগ্রহ না করে সব মিশিয়ে ফেলছে। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি সামুদ্রিক সম্পদও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।"
দুঃস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান প্লাস্টিক উৎপাদনে নিয়ন্ত্রণ আনার কথা বলেন। ইউএনডিপির প্রকল্প উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ দ্বীপক কে সি পলিথিনের বিকল্প পণ্যের ব্যবহার জরুরি বলে উল্লেখ করেন।
তবে স্থানীয় সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মীরা অভিযোগ করেন, সরকারি কর্মকর্তা ও এনজিওগুলো প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণে লোক দেখানো কার্যক্রম চালাচ্ছে, বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান ড. আফতাব হোসেন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল কাবিল খান।
এর আগে জেলার বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পৌর প্রিপারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে প্লাস্টিক পণ্যের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হয়। পরে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় নীরব অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন।
0 Comments