ড. ইউনূস বলেন, “রাখাইন রাজ্যে মানবিক বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ মহাসচিব একটি ত্রাণ চ্যানেলের প্রস্তাব করেছিলেন, যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়ক হতে পারত। কিন্তু তা এখনো কেবল প্রস্তাব পর্যায়েই রয়ে গেছে। কোনো করিডোর চালু হয়নি। এটি চিলে কান নিয়ে যাওয়ার গল্পের মতো অপপ্রচার মাত্র।”
তিনি জানান, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত এক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। এ অবস্থায় সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক মহলে পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ। ড. ইউনূস জানান, সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার প্রথমবারের মতো ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনযোগ্য বলে তালিকা প্রকাশ করেছে, যা বাস্তব প্রত্যাবাসনের পথে বড় সাফল্য।
তিনি বলেন, “আমরা সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকার ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করছি। আন্তর্জাতিক পরিসরে আমাদের সকল বৈঠকে এই ইস্যুকে গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করেছি এবং ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।”
অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে একটি গোষ্ঠী নানা কল্পকাহিনী ছড়াচ্ছে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্যচ্যুত করার এসব অপচেষ্টা সফল হবে না। আমরা জটিল এই সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকব।
0 Comments