সিবি ডেক্স: টানা এক দশক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা আবদুল হামিদ বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থাকে নিজ দলের ভুলের পরিণতি বলে মন্তব্য করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা এই প্রবীণ রাজনীতিক আক্ষেপ করে বলেছেন, "আমাদের অনেক ভুল ছিল। ভুল ছিল বলেই আজকের এই পরিণতি।"
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) একটি জাতীয় দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন তার শ্যালক ডা. আনম নওশাদ খান। তিনি জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মনে করেন, সরকার স্বৈরাচারী হলে জনগণ তা বেশিদিন মেনে নেয় না। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে যদি ভবিষ্যতে রাজনীতি করতে হয়, তবে তাদের নিজেদের ভুলগুলোর দায় স্বীকার করে সংশোধন করতে হবে।
আনম নওশাদ আরও জানান, বর্তমানে তিনি (আবদুল হামিদ) পুরোপুরি পারিবারিক পরিবেশেই আছেন, রাজনৈতিক কোনো যোগাযোগ নেই। তার শারীরিক অবস্থাও এখন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার উপযুক্ত নয়। লাং ক্যানসারের থ্রি-টু-ফোর স্টেজে রয়েছেন তিনি, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় সর্বশেষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত।
আওয়ামী লীগের পতনের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার সঙ্গেও আর কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে জানান নওশাদ খান। ৫ আগস্টের পর, যেদিন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতন ঘটে, সেই সময় থেকে তিনি সম্পূর্ণ রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন।
অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
আবদুল হামিদ ছিলেন হাওড় অঞ্চলের খ্যাতিমান নেতা, যিনি সাতবারের নির্বাচিত এমপি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও পরবর্তীতে ১০ বছর ধরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি থাকার সময়কালকে তিনি “বন্দিজীবন” হিসেবেই দেখেছেন।
এদিকে ৫ আগস্টের ঘটনায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ। নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে এবং শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে।
আবদুল হামিদের বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বড় বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একজন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতার এমন আত্মস্বীকৃতি এবং সতর্কবার্তা নতুন রাজনৈতিক চর্চার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
0 Comments