দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত পাঁচ বছরের তুলনায় এবার পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। শনিবার সকালে শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক নূর আবদুর রাজ্জাক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেন। এ সময় বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বোরহান উদ্দিন, উপপরীক্ষ নিয়ন্ত্রক জহুরুল ইসলাম প্রামাণিক, জহিরুল ইসলাম, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী এবং শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মওদুদুল করিম উপস্থিত ছিলেন। বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, রংপুর বিভাগের আট জেলার ৬৬৮টি কলেজের ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৫১ হাজার ৩৯৮ জন, অর্থাৎ ৫৪ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এবারের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯৫৩ জন। বিগত বছরগুলোতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর পরিমাণ ছিল অনেক বেশি, যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানবমিকে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ, বিজ্ঞানে ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও বিজ্ঞান বিভাগ এগিয়ে রয়েছে। এ ছাড়া ফলাফলের দিক থেকে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। আট জেলার মধ্যে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে রয়েছে রংপুর জেলা এবং সর্বনিম্ন পাসের হার পঞ্চগড়ে। ফলাফলে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বোর্ডে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯টিতে, যা গত বছর ছিল ৪৩টি। ২০২১ সাল থেকে এই শূন্য পাসের কলেজের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক নূর আবদুর রাজ্জাক জানান, পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমার বিষয়টিকে তারা শিক্ষার মানোন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখছেন। শূন্য পাস করা কলেজগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এবার কেবল কারণ দর্শানোর নোটিশ নয়, বরং সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষদের ডেকে ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করা হবে।
দিনাজপুর বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় রেকর্ড পাসের হার পতন হয়েছে। বোর্ডে এবার শূন্য পাস করা কলেজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯টিতে।


0 Comments