মার্কিন ডলারের দর এবং ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড হ্রাসের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বরের সভার কার্যবিবরণী প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা, যার মাধ্যমে সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত আটটা নয় মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক চার শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স চার হাজার ১৫৫ দশমিক ৩৪ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর মাসের গোল্ড ফিউচারের দাম শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ বেড়ে চার হাজার ১৮২ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম ওয়াইকফ উল্লেখ করেছেন যে, ফ্রান্সের বন্ডবাজারের অস্থিরতা এবং মার্কিন ট্রেজারি বাজার নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণে স্বর্ণের প্রতি নিরাপদ বিনিয়োগের ঝোঁক তৈরি হয়েছে। গত সোমবার দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের দশ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড সামান্য হ্রাস পায়। একই সময়ে ডলারের দরও এক বছরের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কমে আসে, ফলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা আরও সাশ্রয়ী হয়েছে। ইউরোজোনের বিভিন্ন রাষ্ট্রে সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ফরাসি পরিস্থিতির কারণে দেশটির সরকারি বন্ডের ইয়েল্ড ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের প্রধান মনোযোগ রয়েছে ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির সেপ্টেম্বর মাসের সভার কার্যবিবরণীর দিকে, যা আগামী বুধবার প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে এবং এটি চলতি বছরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারে। সেপ্টেম্বরে অনুমিত মানের চেয়ে দুর্বল কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশের ফলে চলতি মাসে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা হ্রাস পেয়েছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ব্যবসায়ীরা বর্তমানে ২২ শতাংশ হিসেবে অনুমান করছেন, যদিও ডিসেম্বরে তা বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ ধরে বাজারে লেনদেন চলছে। সাধারণত উচ্চ সুদের হারের সময় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়, কারণ তখন তারা সুদ প্রদানকারী সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা এবং জি-৭ জোটের জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্তের ফলে সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে এবং তেলের দাম কমেছে। টিডি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষকেরা এক নোটে জানিয়েছেন যে, স্বল্পমেয়াদে কিছু চাপ বিদ্যমান থাকলেও এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফ এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে স্বর্ণের চাহিদা অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যান্য মূল্যবান ধাতব বাজারের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রুপার দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ০১ ডলারে অবস্থান করছে, তবে প্লাটিনামের দাম দুই শতাংশ কমে এক হাজার ৬৮৭ দশমিক ৭০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম এক দশমিক এক শতাংশ কমে এক হাজার ১৬০ দশমিক ৩৮ ডলারে নেমে এসেছে।
ডলারের দর ও বন্ড ইয়েল্ড হ্রাসের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেডের বৈঠকের কার্যবিবরণীর অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা।


0 Comments