আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারের চিত্র সম্পূর্ণরূপে বদলে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পুঁজিবাজারের পুনরুজ্জীবন এবং এর পরিসর বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে নানা ধরনের সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাজারকে চাঙ্গা করতে অতীতে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অটোমেশন বাস্তবায়ন, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড বা সিডিবিএল গঠন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলেও পরবর্তী সময়ে এসব কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতি বজায় রাখতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। পুঁজিবাজারে এখন বাস্তবমুখী পুনরুদ্ধারমূলক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, এই প্রক্রিয়ায় কোনো কোনো অংশীজনের স্বার্থে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণেরও প্রয়োজন হতে পারে। প্রচলিত অর্থায়ন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের আর্থিক কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। সরকারি তহবিলের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অর্থায়নের ধাচেও পরিবর্তন আনতে চায় সরকার। বিশেষ করে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচ্চ সুদে ব্যাংকঋণ নেওয়ার প্রবণতা থেকে বের করে এনে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশকে হাই স্ট্রিট থেকে ওয়ার্ল্ড স্ট্রিটের দিকে ধাবিত করার তাগিদ দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রয়োজনে বন্ড মার্কেট, ডেরিভেটিভস, সিকিউরিটাইজেশন ও ইক্যুইটি মার্কেটকে আরও বেশি শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পুঁজি সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বা আইএমএফের কর্মসূচি বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্থাটির শর্তগুলো তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বৈশ্বিক বাজার ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে দেশের অর্থনৈতিক পদক্ষেপের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া মিলছে বলে জানান তিনি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।
আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।


0 Comments