ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা সর্বত্রই অপরিকল্পিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আসন বাড়ার প্রবণতা

প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা সর্বত্রই অপরিকল্পিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আসন বাড়ার প্রবণতা

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সব স্তরে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে অপ্রয়োজনীয়ভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আসন বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কোথাও শিক্ষার্থী না থাকলেও শিক্ষক রয়েছে, আবার কোথাও শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষক নেই। এই অব্যবস্থাপনার চিত্র প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই বিদ্যমান। উদাহরণস্বরূপ হার্ভার্ড ইন্টারন্যাশনাল কলেজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বাস্তবে কোনো কার্যক্রম না থাকলেও কাগজে-কলমে দেড়শ আসন ও শিক্ষক রয়েছে এবং সেখানে একাদশ শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক কিন্ডারগার্টেন গড়ে উঠলেও সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদারকি বা সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে বড় ধরনের শূন্যতা রয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সম্প্রতি জানিয়েছেন যে সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের সব বেসরকারি, কিন্ডারগার্টেন ও ইংরেজি মাধ্যমের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও সরকারি তদারকির আওতায় আনা হবে। বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপের তথ্য বলছে, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা বাংলা যুক্তবর্ণ, ইংরেজি ও গণিতে যথেষ্ট দুর্বল। মাধ্যমিক স্তরেও শিক্ষক সংকট ও ভিন্ন স্তরের শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানোর অসংগতি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ সিলেটের জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ৪৮৬ জন ছাত্রীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন মাত্র দুজন। আইসিটি বিষয় বাধ্যতামূলক হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে আলাদা শিক্ষক পদ নেই। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। পর্যাপ্ত আসন থাকলেও বিপুল সংখ্যক আসন খালি রয়েছে এবং অনেক কলেজেই শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। শিক্ষার্থী না থাকায় ইতিমধ্যে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি স্থগিত এবং অনুমোদন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও উচ্চশিক্ষার মান ও শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি ১০০ জন শিক্ষিত তরুণের মধ্যে ৩৬ জন বেকার। শিক্ষাবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, অপরিকল্পিত শিক্ষার এই পরিস্থিতি এক দিনে তৈরি হয়নি এবং শিক্ষাকে রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ায় এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।

সংক্ষেপে:
প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সব স্তরে চাহিদার সঙ্গে মিল না রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আসন বাড়ানোর ফলে পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা সর্বত্রই অপরিকল্পিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আসন বাড়ার প্রবণতা

0 Comments