বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের জামিন আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি মোড় রেজাউল হক কোনো আদেশ দেননি বা নো অর্ডার প্রদান করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান এবং দীপংকর তালুকদারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনাবিল আনন্দ রায়। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ভাটারা, পল্টন মডেল ও বংশাল থানার আলাদা তিনটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান দীপংকর তালুকদার। আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত তিনটি মামলার এজাহারে দীপংকর তালুকদারের নাম ছিল না। এ ছাড়া তিনি পূর্বে আরও পাঁচটি মামলায় জামিন লাভ করেছেন। সব মিলিয়ে আটটি মামলায় জামিন পাওয়ায় তাঁর মুক্তিতে বাধা কাটল। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশের সময় সংঘর্ষে যুবদল নেতা শামীম মোল্লা নিহতের ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ওবায়দুল কাদেরসহ ৭০৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন ছাত্রদলের সাবেক সদস্য মো. আব্বাস আলী। সেই মামলায় গত বছর ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোবহানবাগ থেকে দীপংকর তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে ভাটারা, শাহবাগ, পল্টন ও বংশাল থানার চার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং গত ১৮ মে নতুন করে আরও তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তিনি রাঙামাটি আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পাঁচবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন এবং ১৯৯১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে নবম জাতীয় সংসদের সময় তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের জামিন বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত। সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তাঁর কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।


0 Comments