ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

এইচএসসির নিম্ন পাসের হারে উদ্বিগ্ন শিক্ষামন্ত্রী, পুনর্নিরীক্ষায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

এইচএসসির নিম্ন পাসের হারে উদ্বিগ্ন শিক্ষামন্ত্রী, পুনর্নিরীক্ষায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বিগত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এবং জিপিএ-৫-এর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার ৩১ অক্টোবর সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, খাতা মূল্যায়ন কিংবা ফলাফল তৈরিতে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অসংগতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে সরকার চিন্তিত। উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। আগামী রবিবার থেকে এই পুনর্নিরীক্ষণের আনুষ্ঠানিক আবেদন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ফলাফলে কোনো অসংগতি পেলে শিক্ষার্থীরা পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ নিতে পারবে। বিগত বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, অতীতে পুনর্নিরীক্ষণের ফলে বহু শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তিত হয়েছিল। পরীক্ষকদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে এবং বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া দেশের পুরো পরীক্ষা পদ্ধতি ও ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াটি নতুন করে পর্যালোচনার ঘোষণা দেন তিনি। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এর আগে এসএসসি পরীক্ষার প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন, প্রায় পাঁচ হাজার ফেল করা শিক্ষার্থীর পাস এবং নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জনের জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই বিপুল পরিমাণ ফল পরিবর্তনকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করে তিনি জানান, পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্থা পুনরায় পরীক্ষা করে দেখা হবে। প্রধানমন্ত্রী চান শিক্ষার্থীরা যেমন লিখেছে, ঠিক তেমনই যেন তাদের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন হয়। চলতি বছর ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সার্বিক পাসের হারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ৩১ অক্টোবর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে একযোগে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ৯টি সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ৬.৭১ শতাংশ কম। এ বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী। সার্বিক পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেরা কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। ঢাকা বোর্ডে পাসের হার সর্বোচ্চ এবং বরিশাল বোর্ডে সর্বনিম্ন রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া সারাদেশে ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস এবং ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।

সংক্ষেপে:
এইচএসসি ও সমমানের ফলাফলে সর্বনিম্ন পাসের হারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আগামী রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন।
এইচএসসির নিম্ন পাসের হারে উদ্বিগ্ন শিক্ষামন্ত্রী, পুনর্নিরীক্ষায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

0 Comments