ডেঙ্গুর প্রকোপ শহর ছাড়িয়ে গ্রামে ছড়িয়ে পড়লেও মশা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে গঠিত ৪৮ হাজারেরও বেশি কমিটি মূলত কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। ওয়ার্ড থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত এসব কমিটি থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগই নিষ্ক্রিয় অবস্থায় আছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১ হাজার ৯৯৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং গতকাল একদিনেই মারা গেছেন ১০ জন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮১ জনে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জাতীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নিয়ম থাকলেও জাতীয় ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ের কমিটি ছাড়া বাকিগুলোর কার্যকরিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলাম দাবি করেছেন যে জাতীয় কমিটি, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৩৩০টি পৌরসভার কমিটিগুলো মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং অন্য কমিটিগুলোও সক্রিয় রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ভিন্ন চিত্র। পাবনার বেড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক রুনাল্ট চাকমা জানান, কমিটি গঠনের কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় কোনো কমিটি গঠিত হয়নি। নেত্রকোনা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল আমিন জানিয়েছেন, পৌরসভার কোনো ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটি নেই। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, তাদের টাস্কফোর্স কমিটি থাকলেও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি কার্যকর নয়। অন্যদিকে, কুমিল্লার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে যে তাদের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ২৭টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠিত হয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল মনে করেন, মাঠপর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ের সব কমিটিকে সচল করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ বছরব্যাপী কার্যক্রমের তদারকি ও সমন্বয় করার কথা থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে ৪৮ হাজার কমিটি কাগজে-কলমে থাকলেও মাঠপর্যায়ে বেশিরভাগই নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের এই কমিটিগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

0 Comments