চড়া সুদে দাদন ব্যবসা, চেক ডিজঅনারের মামলা, মানবপাচার ও প্রতারণার নানা অভিযোগে কুড়িগ্রামের উলিপুরের আলোচিত মমিনুল ইসলাম বাবলুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রংপুর নগরীর পশ্চিম জুম্মাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ দল। প্রতারণার একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াদুদ আলম জানান, প্রতারণার একটি মামলায় মমিনুল ইসলাম বাবলুকে গ্রেপ্তার করার পর আদালতে সোপর্দ করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে বাবলুর গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উলিপুরে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে স্বস্তি দেখা দেয়। শনিবার শত শত মানুষ আনন্দ মিছিল বের করেন এবং বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। একই দিন দুপুরে মসজিদুল হুদার সামনে মানববন্ধন করে ভুক্তভোগীরা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উলিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় উচ্চ সুদে টাকা ধার দেওয়ার আড়ালে বাবলু নানা হয়রানি ও প্রতারণা করে আসছিলেন। ২০২১ সালে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর নারীদের গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা এবং সেখানে অননুমোদিত কাজে বাধ্য করার অভিযোগ করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর কথা বলে জাল ভিসার মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
দাদন ব্যবসার বিষয়ে ভুক্তভোগীরা জানান, অভাবগ্রস্ত মানুষের আর্থিক সংকটকে পুঁজি করে চড়া সুদে টাকা ধার দিতেন বাবলু। ঋণ দেওয়ার সময় জামানত হিসেবে ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হতো। মূল টাকা পরিশোধের পরও অথবা সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে ওই চেক ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে প্রকৃত পাওনার চেয়ে ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি টাকা দাবি করা হতো। দেশের বিভিন্ন দূরবর্তী জেলায় মামলা করে ঋণগ্রহীতাদের হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব ঘটনায় উলিপুরের অন্তত ৩০টি পরিবার আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাবলু অন্তত ২০টি চেক ডিজঅনারের মামলা করেছেন এবং এসব মামলায় প্রকৃত পাওনার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ দাবি করা হয়েছে। মানবপাচার, প্রতারণা ও দাদন ব্যবসাসংক্রান্ত একাধিক মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে এবং বিভিন্ন আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।
আব্দুল মজিদ মন্ডল, মহন্ত বর্মন, দুলাল হোসেন ও জোবেদ আলীসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে তাঁরা বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছেন, মানববন্ধন করেছেন এবং সংসদ সদস্য ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। বাবলুর গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, কেবল গ্রেপ্তার নয়, সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ আইনানুগ শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
চড়া সুদে দাদন ব্যবসা, মানবপাচার ও প্রতারণার অভিযোগে কুড়িগ্রামের উলিপুরের আলোচিত মমিনুল ইসলাম বাবলুকে রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে উলিপুরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন ভুক্তভোগীরা।
-6ae5c3a8c0c45.webp)

0 Comments