ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

ইসরায়েলি নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আরব দলগুলোকে নিশানা করলেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলি নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আরব দলগুলোকে নিশানা করলেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী ও লিকুদ পার্টির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনে আরব দলগুলোর নজিরবিহীন সাফল্যের পেছনে আংশিক দায় রয়েছে এই জালিয়াতির। তবে তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। আরব নেতারা এই অভিযোগ নাকচ করে উল্টো নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা ব্যাপক অংশগ্রহণ করেন। এর ফলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের কারও জন্যই সহজে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ খোলা থাকেনি। নির্বাচনের বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশের পর জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির নির্বাচনী সদর দপ্তরে বক্তব্য দেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোট জালিয়াতির অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরদার করে নেতানিয়াহু তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটকে এমন অবস্থায় ফেলতে চাইছেন, যাতে তিনি আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের কথা চিন্তা করতে না পারেন। নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর কোনো দল বা জোট এককভাবে বিজয়ের পথে নেই। রাইখম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আইতান গিলবোয়া বলেছেন, নেতানিয়াহুর লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের আরব ও ইহুদি নাগরিকদের হাত মেলানোকে অগ্রহণযোগ্য করে তোলা। ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশ আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো রেকর্ডসংখ্যক ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, আসনসংখ্যায় সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে নেতানিয়াহুর জাতীয়তাবাদী-ধর্মীয় জোট। গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও মধ্য-বামপন্থী জোট রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। তবে দুই নেতার কোনো জোটই ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি। আইজেনকটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন এবং নেতানিয়াহুর শিবির পেয়েছে ৫৩টি। আইজেনকট এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোকে সঙ্গে নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। আরব দল জয়েন্ট লিস্টের অন্যতম নেতা আহমাদ তিবির ভাষ্যমতে, নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহু বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা শুরু করেছেন। রয়টার্সকে তিনি জানান, এই প্রচারণার লক্ষ্য হলো আইজেনকটকে বাধা দেওয়া এবং জয়েন্ট লিস্ট বা রাআমের মতো আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন থেকে তাঁকে বিরত রাখা। লিকুদ পার্টি জানিয়েছে, ভোট জালিয়াতির প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে, তবে তারা তা প্রকাশ করেনি। ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবারের পর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের আরব অধ্যুষিত এলাকা থেকে অন্তত সাতজনকে ভোট জালিয়াতির সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রধান ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ নির্বাচনে অজ্ঞাত বিদেশিদের হস্তক্ষেপের চেষ্টার অভিযোগ তদন্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকে অনুরোধ করেছেন। আরব দল রাআমের প্রধান মনসুর আব্বাস জানিয়েছেন, তাঁর দল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নয় এবং তিনিও অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে মনসুর আব্বাস বলেন, আরব নাগরিকদের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর উসকানি ও অস্বীকার করার প্রচারণা কোনো কাজে আসবে না, কারণ এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।

সংক্ষেপে:
ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে আরব নেতারা এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে উল্টো উসকানির অভিযোগ এনেছেন।
ইসরায়েলি নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আরব দলগুলোকে নিশানা করলেন নেতানিয়াহু

0 Comments