আবাসনসংকট ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ফ্রান্স ও স্পেনে চলা বিক্ষোভ এবার ইতালি ও পর্তুগালেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইতালির মিলানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। মিলানের কেন্দ্রস্থলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে একটি মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও পরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা দাঙ্গা পুলিশের দিকে পাথর ও রাস্তার পাকা ব্লক ছুড়তে থাকেন এবং রেস্তোরাঁর টেবিল দিয়ে তৈরি ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। ইতালির কারাবিনিয়েরি পুলিশের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সংঘর্ষে অন্তত দুজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত ও প্রায় ৫০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, বিক্ষোভ করা মানুষের অধিকার হলেও শহরগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া কোনো অধিকার নয়। মিলানের মধ্য-বামপন্থী মেয়র জিউসেপ্পে সালা জানিয়েছেন, বিক্ষোভের কারণ বোধগম্য হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সহিংসতা ও ক্ষয়ক্ষতি সমর্থনযোগ্য নয়। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও আবাসনসংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন জোরদার হয়েছে। সেখানে শনিবার বিক্ষোভকারীরা তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান শুরু করেন। পর্তুগালের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন এবং রাতে রোসিও স্কয়ারে সমবেত হন। সমাজকর্মী এলেনা কস্তা বলেন, করদাতা সমাজ আক্রমণের মুখে পড়েছে এবং তারা আবাসনের অধিকারসহ নিজেদের অধিকার হারাচ্ছে। লিসবনের বিক্ষোভকারী আন্তোনিও মারগাদো সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বাড়িভাড়ার ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং বাড়ির মালিকেরা বেশি সুরক্ষা পেলেও ভাড়াটিিয়ারা সুরক্ষা হারাচ্ছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্তুগালে আবাসন ব্যয় বেড়েছে ১২৪ শতাংশ। পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো বলেছেন, সরকারি নীতিতে ঘাটতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভের বিষয়টি সরকার বুঝতে পারছে, তবে অন্য দেশ থেকে অস্থিতিশীলতা ও বিক্ষোভের পরিবেশ পর্তুগালে নিয়ে আসার চেষ্টা করা উচিত নয়। এদিকে আলবেনিয়াতেও উচ্চ টিউশন ফি ও পরিবেশের প্রতিবাদে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর, পেট্রলবোমা ও আতশবাজি ছোড়েন এবং পুলিশ প্রথমবারের মতো রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। স্পেনে বাড়িভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভের পেছনে ৮৭ বছর বয়সী মারিয়া দেল কারমেন আবাসকালকে উচ্ছেদের ঘটনা ভূমিকা রেখেছে, যিনি ভাড়াবৃদ্ধির দাবি মেটাতে না পারায় উচ্ছেদ হন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগাম সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করেছেন। ফ্রান্সেও বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং শনিবার ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্যারিসে সহিংসতা, আগুন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
আবাসনসংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্স, স্পেন ও আলবেনিয়ার পর ইতালি ও পর্তুগালেও তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও আটকের ঘটনা ঘটেছে।


0 Comments