চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দের সরকারি বাংলোয় ডেকে নিয়ে সাংবাদিক মিজানকে নির্যাতন, মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং থানায় যাওয়ার পথে দ্বিতীয় দফায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। এর ফলে সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মিজানের অভিযোগ, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল বিকেলে ফোন করে তাঁকে ইউএনওর সরকারি বাংলোয় যেতে বলেন। মাগরিবের নামাজের পর সেখানে উপস্থিত হলে তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর ইউএনও বায়েজীদ-বিন-আখন্দ তাঁর প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গালিগালাজ ও মানসিক নির্যাতন করেন। মিজানের দাবি, ওই সময় বাংলোয় আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত মোরশেদ ও মাঈন উদ্দীনসহ ১০ থেকে ১২ জন। ইউএনওর নির্দেশ ও ইন্ধনে তাঁরা তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। পরে তাঁকে বাংলো থেকে বের করে দেওয়া হয়। আহত অবস্থায় সাংবাদিক মিজান লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এরপর থানায় মামলা করতে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর পথরোধ করে আবারও হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রাণভয়ে দৌড়ে থানায় আশ্রয় নেন মিজান এবং সেখানে অবস্থান করে আইনি প্রক্রিয়া চালান। সাংবাদিক মিজানের ভাষ্য, ইউএনওর কথিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে বাংলোয় ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, দেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়েও সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতনের চিত্র পরিবর্তন হয়নি। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং এসব ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কোনো সংবাদে আপত্তি থাকলে আইনি প্রতিকার বা প্রেস কাউন্সিলের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিযোগের বিষয়ে জানতে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিন এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে সম্মত হননি, তবে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করার আশ্বাস দেন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, তিনি বিষয়টি মাত্র অবগত হয়েছেন এবং জেলা প্রশাসককে এখনই নির্দেশ দিচ্ছেন যাতে এ বিষয়ে দ্রুত ও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ইউএনওর সরকারি বাংলোয় ডেকে নিয়ে সাংবাদিক মিজানকে নির্যাতন ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


0 Comments