মাদারীপুরের শিবচরে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর পরিস্থিতিতে নিলখী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি তাইজুল ইসলামকে হাতেনাতে আটকের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার দুপুরে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে তাইজুল ইসলামের নিজ বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার আব্দুর রহমান মিয়াজীর ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সময় তাঁকে এক নারীর সঙ্গে ঘরের ভেতরে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে তারা আটক করেন। পরবর্তীতে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান এবং সন্ধ্যার পর থেকে রাতের মধ্যে ঘটনার ভিডিওটি ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কথা বলে নারীদের পানিপড়া ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে কথিত চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন তাইজুল ইসলাম। এভাবে নারীদের প্রভাবিত করে তাদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর সরদার বলেন, চিকিৎসার কথা বলে নারীদের বাসায় এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করেন তিনি এবং বাধা দিতে গেলে বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি দিতেন। এ ধরনের অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে ঘটনার পর প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার সহায়তায় ওই নারীকে সেখান থেকে নিরাপদে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযুক্ত তাইজুল ইসলামের বক্তব্য জানার জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। মাদারীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এনায়েত হোসেন জানান, বিষয়টি তাঁরা খতিয়ে দেখছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে শিবচর থানার পরিদর্শক রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ এবং ভিডিও পর্যালোচনা করেছে। তবে এই ঘটনায় এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি এবং নিরাপত্তা চেয়ে মসজিদের ইমাম একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
মাদারীপুরের শিবচরে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় জামায়াত নেতা তাইজুল ইসলামকে আটকের দাবি স্থানীয়দের। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে।


0 Comments