যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কিনতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে এক অভূতপূর্ব সমঝোতার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সার্জিও গর জানান, চলতি সপ্তাহে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে হওয়া এই বাণিজ্যিক সমঝোতার আওতায় বাংলাদেশ কয়েকশ কোটি ডলার ব্যয়ে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর ফলে প্রাথমিক ক্রয়াদেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নতুন করে ঠিক কতটি উড়োজাহাজ কেনা হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করেননি।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছিল। পরবর্তীতে আগস্ট মাসে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে যোগাযোগ হয়। মূলত ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় বাণিজ্যঘাটতি কমাতে এই প্রসঙ্গটি সামনে আসে। তৎকালীন বাণিজ্য ও বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বিমান বহর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট উড়োজাহাজ কিনবে। এই ১৪টি উড়োজাহাজের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এই প্রক্রিয়ায় প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের নভেম্বরের মধ্যে এবং বাকিগুলো ২০৩৫ থেকে ২০৩৭ সালের মধ্যে বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্প ও তারেক রহমানের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ। কয়েকশ কোটি ডলারের এই চুক্তির মাধ্যমে বিমান বহর আধুনিকায়ন ও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।


0 Comments