চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ শরীফ উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। পূর্ণ অর্থায়নে ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডায় রসায়ন বিভাগে পিএইচডি করবেন তিনি। কেবল পড়াশোনা নয়, গবেষণা, খেলাধুলা, সাইক্লিং এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদানের জন্য ক্যাম্পাসে তিনি ‘অলরাউন্ডার’ হিসেবে পরিচিত।
শরীয়তপুরের নড়িয়ার জপসা গ্রামের সন্তান মাহমুদ শরীফ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে যথাক্রমে ৩.৭৮ ও ৩.৯৮ সিজিপিএ অর্জন করেন। চবিতে অধ্যয়নকালীন তিনি ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ অ্যান্ড হায়ার স্টাডি সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
গবেষণার ক্ষেত্রেও শরীফ উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছেন। চবির ন্যানোটেকনোলজি, রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যান্ড ক্যাটালিটিক ল্যাবরেটরিতে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়ায় ভিজিটিং রিসার্চার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর গবেষণাপত্র ‘জার্নাল অব এনার্জি স্টোরেজ’ ও ‘জার্নাল অব পাওয়ার সোর্সেস’-এর মতো বিশ্বখ্যাত জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি চট্টগ্রাম গবেষণা ও উদ্ভাবন উৎসব ২০২৫-এ ‘হাইয়েস্ট ইমপ্যাক্ট পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড’ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ফেলোশিপ লাভ করেন।
পড়াশোনার বাইরেও মাহমুদ শরীফ ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। তিনি চবির রসায়ন বিভাগের ক্রিকেট দলের হয়ে চারবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ২০২২ সালে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ সাইকেলে পাড়ি দেন তিনি। এছাড়া তিনি আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির চবি স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার প্রতিষ্ঠা এবং টেডেক্স চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভেন্ট ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকেও পিএইচডির সুযোগ পেয়েছিলেন শরীফ। তবে নিজের পছন্দের বিষয় হওয়ায় তিনি ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডাকেই বেছে নেন। মাহমুদ শরীফ মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়, বরং নিজেকে চেনা এবং অন্যদের জন্য সুযোগ তৈরির ক্ষেত্র।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শিক্ষার্থী মাহমুদ শরীফ পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। গবেষণা, খেলাধুলা ও সামাজিক কাজে সফল এই তরুণ অন্যদেরও উচ্চশিক্ষার পথ দেখাচ্ছেন।


0 Comments