মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে এবার কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এসব হামলা প্রতিহত করতে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোই ছিল এই হামলার মূল লক্ষ্য।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েতের সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছে, ইরানের এই হামলাগুলোকে তারা শত্রুতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি বুধবার কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও কমান্ডারের বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এর আগে ইরানি সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি দাবি করেছিল, কুয়েতের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর সেখান থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। তবে এই হামলার বিষয়ে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। সম্প্রতি ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর থেকেই তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা শুরু করেছে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান ও সৌদি আরবেও একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইরান স্পষ্ট করেছে যে, তাদের লক্ষ্য কুয়েতের সাধারণ জনগণ নয়, বরং সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে তেহরান কুয়েত থেকে দ্রুত মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কুয়েতে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির কারণে দেশটি ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার জেরে কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েতের সেনাবাহিনী এই হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রেখেছে।


0 Comments