মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন, ঠিক সেই সময়েই হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর পাহারায় থাকা দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই হামলার কথা নিশ্চিত করে জানায়, নীতি অমান্য করায় জাহাজগুলোতে আঘাত করে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় মার্কিন বিমানবাহিনীর পাহারায় থাকা আরও চারটি ট্যাংকার দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন করে আগের অবস্থানে ফিরে যায়।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে। জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর পরদিনই এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটল। এদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই তাদের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে লেবাননের দক্ষিণ অঞ্চলে হিজবুল্লাহর টানেল ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিড অবকাশযাপন কেন্দ্রে আয়োজিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, শ্রমমন্ত্রী কিথ সোন্ডারলিং এবং গৃহায়ণ ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী স্কট টার্নার। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই বৈঠককে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ আমেরিকান এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। তবে এই সংকটের মধ্যেও এক্সনমবিল ও শেভরনের মতো জ্বালানি কোম্পানিগুলো রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করছে।
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন পাহারায় থাকা তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


0 Comments