দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কোরীয় যুদ্ধের সংঘাত থামলেও দেশ দুটির মধ্যে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হয়নি। জাপানি শাসন থেকে মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় লি এই আহ্বান জানান।
প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং বলেন, কোরীয় উপদ্বীপের ডিমিলিটারাইজড জোন বা ডিএমজেডে উত্তেজনা প্রশমনে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে তিনি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে সরাসরি আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তার মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে শত্রুতামূলক নীতি পরিহার করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ তৈরি করা।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই লি জে-মিয়ং উত্তর কোরিয়া ও চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে উত্তর কোরিয়া ২০২২ সালে নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে এবং অস্ত্র ত্যাগের সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়। লি এর আগে জানিয়েছিলেন, পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধের কোনো বাস্তবসম্মত সমঝোতা হলে তিনি তাতে সমর্থন দেবেন।
লির এই প্রস্তাবের বিষয়ে উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার আগে দেশটি সমুদ্রে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। চলতি বছরে এটি উত্তর কোরিয়ার ১১তম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।
উত্তর কোরিয়াকে যুদ্ধের অবসান ও শান্তি আলোচনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং। কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করাই তার লক্ষ্য।


0 Comments