ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অব্যাহত ইসরাইলি সামরিক অভিযানের মুখে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনা সুরক্ষার আহ্বান আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এই আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও গুলিতে হতাহতের খবর প্রতিনিয়ত আসছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ)-এর তথ্যের বরাতে ডুজারিক জানান, গাজায় ইসরাইলি অভিযানে নারী ও শিশুসহ অসংখ্য বেসামরিক মানুষ হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা বা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে গাজার অতিরিক্ত জনাকীর্ণ পরিস্থিতির কারণে শিশুরা বর্তমানে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় আরও ১০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৪১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৯ শিশুসহ ৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান ডুজারিক।
বর্তমানে গাজার ২১ লাখ মানুষের প্রায় ৯৪ শতাংশই মৌলিক আশ্রয় ও গৃহস্থালি সহায়তার সংকটে রয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা প্রতি পাঁচটি পরিবারের মধ্যে চারটিই চরম খাদ্যসংকটে ভুগছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের তীব্র অভাব এই মানবিক বিপর্যয়কে আরও ঘনীভূত করছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।
গাজায় অব্যাহত ইসরাইলি হামলায় বাড়ছে প্রাণহানি। এমন পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনা সুরক্ষায় আবারও আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। উপত্যকাটিতে খাদ্য ও আশ্রয়ের তীব্র সংকটে মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে।


0 Comments