ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসন এই পদক্ষেপকে ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক নিবন্ধে এই নিষেধাজ্ঞাকে অর্থনৈতিক ডি-ডে হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ইরানের অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত দেশগুলোও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে। ওয়াশিংটন সময় সোমবার বেলা ১টায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই কঠোর পদক্ষেপের বিস্তারিত ঘোষণা করার কথা রয়েছে তার। বেসেন্ট আরও অভিযোগ করেন যে, কিছু দেশ ইরান তোষণ নীতি গ্রহণ করেছে যা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলতে থাকলে পারস্য উপসাগর বা অন্য কোনো পথে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না। ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধে কোনো দেশের সমর্থনকে সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের ফলে ইরানের অর্থনীতি ও অবকাঠামো ইতিমধ্যে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতার একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ইরানের হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ কোনো সমস্যার সমাধান দেবে না। অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফর করছেন। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও বিক্ষোভের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার বিপরীতে পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়েছে তেহরান। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

0 Comments