ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বা প্রজ্ঞা অর্জনে ইসলামের নির্দেশিত তিনটি সহজ উপায়

সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বা প্রজ্ঞা অর্জনে ইসলামের নির্দেশিত তিনটি সহজ উপায়

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক ও কল্যাণকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাকে ইসলামি জীবনদর্শনের ভাষায় প্রজ্ঞা বা হিকমা বলা হয়। বর্তমান সময়ে অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে এবং সঠিক পথ বেছে নিতে এই প্রজ্ঞা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। ইসলামি চিন্তাধারার আলোকে প্রজ্ঞা অর্জনের জন্য তিনটি কার্যকর ধাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞা অর্জনের প্রথম ধাপ হলো তওবার মাধ্যমে অন্তর পরিষ্কার করা। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, মানুষ যখন কোনো পাপে লিপ্ত হয়, তখন তার অন্তরে কালো দাগ পড়ে যায়, যা ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। মহানবী (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, খাঁটি তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে এই কালিমা দূর করে অন্তরকে পুনরায় স্বচ্ছ করা সম্ভব। স্বচ্ছ অন্তরেই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞা বিকশিত হয়।

দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে পাপ বর্জন এবং নিয়মিত আল্লাহর স্মরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অপরাধ মানুষের চিন্তার জগতে শয়তানের প্রবেশের পথ তৈরি করে। তাই পাপের পথ বন্ধ করার পাশাপাশি সকাল-সন্ধ্যার জিকির ও দোয়া চর্চার মাধ্যমে মনকে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির মানুষের চারপাশে এক ধরনের আধ্যাত্মিক সুরক্ষা তৈরি করে।

তৃতীয় ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো গভীর ভাবনা বা তাফাক্কুর। সৃষ্টির রহস্য এবং নিজের জীবনের ভুলত্রুটি নিয়ে নির্জনে চিন্তা করাকে ইসলামে ‘উৎপাদনশীল নীরবতা’ হিসেবে গণ্য করা হয়। পবিত্র কোরআনে যারা দাঁড়িয়ে, বসে বা শুয়ে সর্বাবস্থায় সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন, তাদের বিবেচনাবোধসম্পন্ন বা ‘উলুল আলবাব’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই গভীর আত্মপর্যালোচনা ও সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে ভাবনাই মানুষকে প্রকৃত প্রজ্ঞাবান করে তোলে।

সংক্ষেপে:
জীবনের সঠিক ও কল্যাণকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বা প্রজ্ঞা অর্জনে ইসলামের তিনটি কার্যকর ধাপ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তওবা, জিকির ও গভীর ভাবনার মাধ্যমে এই বিশেষ গুণ অর্জন সম্ভব।
সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বা প্রজ্ঞা অর্জনে ইসলামের নির্দেশিত তিনটি সহজ উপায়

0 Comments