ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে পরিচালিত তরুণদের বিক্ষোভে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, বিক্ষোভকারীদের দমাতে ইলেকট্রিক শকের যন্ত্র ও প্যালেট গান ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতীয় তরুণদের এই আন্দোলনের মুখে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় রাজধানী নয়াদিল্লিতে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। গত ২০ জুলাই বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট অভিমুখে যাত্রা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, দিল্লি ও বিহারে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্যালেটচালিত শটগান, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং লাঠি ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বিহারের সিওয়ান জেলায় পুলিশের প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের ঘটনা যাচাই করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটলেও পুলিশের প্রতিক্রিয়া ছিল আন্তর্জাতিক আইন ও অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকার পরিপন্থী। এদিকে, দিল্লি পুলিশ সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে যে, বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠার পরই তারা বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছিল। পুলিশের দাবি, শিক্ষার্থীদের ছদ্মবেশে থাকা দুষ্কৃতকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আহত করেছে।
সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আহত এক বিক্ষোভকারীর সঙ্গে অবস্থান নিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট উভয় পক্ষের সহিংসতা তদন্তে গত বৃহস্পতিবার একটি প্যানেল গঠন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য এই আন্দোলন ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
ভারতে সিজেপির তরুণদের বিক্ষোভে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও ইলেকট্রিক শক ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। প্রশ্নপত্র ফাঁস কেন্দ্রিক এই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর তদন্তে নেমেছে সুপ্রিম কোর্ট।


0 Comments