মালয়েশিয়া থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর সম্ভাব্য পদক্ষেপ এবং দেশটিতে শরণার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সাম্প্রতিক প্রশাসনিক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা। সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে পাঠানো আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং তাদের জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
গত ৩১ জুলাই প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে Nationality for All, Institute on Statelessness and Inclusion, Global Movement Against Statelessness, Asia Pacific Refugee Rights Network এবং Statelessness and Dignified Citizenship Coalition Asia Pacific এই উদ্বেগ জানায়। বিবৃতিতে মালয়েশিয়া সরকার, ইউএনএইচসিআর, আসিয়ান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মালয়েশিয়া সরকার সম্প্রতি ইউএনএইচসিআরের নতুন রোহিঙ্গা নিবন্ধন কার্যক্রম স্থগিত করেছে এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদের পর ১১০ জন শরণার্থীকে আটক করেছে। এছাড়া মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সাথে আলোচনার মাধ্যমে মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে দেশটি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই উদ্যোগকে অকাল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে।
সংস্থাগুলো জানায়, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং সেখানে তাদের নিরাপত্তা বা সুরক্ষার কোনো গ্যারান্টি নেই। ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে গণহত্যা ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির পথ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক আইনের নন-রিফাউলমেন্ট নীতি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে এমন স্থানে ফেরত পাঠানো যায় না যেখানে তার জীবন বা নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকে।
মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অনলাইন ঘৃণাচারণ, উচ্ছেদ এবং হয়রানি বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবৃতিতে গুরুত্ব পেয়েছে। অন্তত ১০০ রোহিঙ্গা পরিবার উচ্ছেদের শিকার হয়েছে এবং অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া সরকারকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা স্থগিত করা, নিবন্ধন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা এবং রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাগুলো। একই সাথে আসিয়ানকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও অধিকার পুনর্বহালকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়া থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর সম্ভাব্য উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


0 Comments