ইরানের অর্থনীতিকে বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরানের তেলসহ আয়ের সব উৎস লক্ষ্য করে এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে। বিশ্বের অন্য কোনো দেশ বা কোম্পানি যাতে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’। স্কট বেসেন্ট একে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই অভিযানের আওতায় ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন—এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করবে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশগুলোকে এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো একটি পক্ষকে বেছে নিতে হবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের ফোন করে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে অনুরোধ জানাচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে তেহরান ওয়াশিংটনের এই বিধিনিষেধ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ইরানের বৈদেশিক সম্পর্ক সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থানে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র নেই।
এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি ইরানের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে চীনের ব্যাংকগুলো কেন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নেই, এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী জানান, কেউই এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে নয় এবং এ বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।
ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে বড় ধরনের বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে অন্য দেশগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।


0 Comments