ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং চাঁদাবাজি বন্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় ও এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে মালিকপক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন বা পুলিশ—যেই হোক না কেন, সবার কর্মকাণ্ড ক্যামেরায় রেকর্ড থাকবে। এতে মহাসড়কে চাঁদাবাজির প্রবণতা কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টো পথে গাড়ি চালানো এবং ওভারটেকিংয়ের মতো অপরাধগুলো এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে। অপরাধ শনাক্ত হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা হবে এবং সেই তথ্য বিআরটিএ-র কাছে পাঠানো হবে। গাড়ির মালিকের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জরিমানার খবর পৌঁছে যাবে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তা পরিশোধ করা যাবে। তিনবার জরিমানা হলে গাড়ির নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে বিআরটিএ আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন, এই সিস্টেমের প্রাথমিক ভুলত্রুটি সংশোধন করে পর্যায়ক্রমে দেশের সব মহাসড়কে এটি চালু করা হবে। এছাড়া মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বা নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে এবং লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তির অটো ফাইন সিস্টেম উদ্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এর মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করা হবে এবং চাঁদাবাজি বন্ধ হবে।


0 Comments