ঢাকা থেকে বের হতে গেলেই চোখে পড়ে নদী। গাবতলীর তুরাগ থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের পথে মেঘনা কিংবা বরিশালের পথে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী—নদীর এই জাল বিস্তৃত সারা দেশে। মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যার মতো বড় নদীগুলো মুন্সিগঞ্জে এসে মিলেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, নদীর এই নকশা অনেকটা গাছের ডালপালা বা মানুষের শরীরের রক্তনালির মতো। একে বলা হয় পরিবহন নেটওয়ার্ক, যা বিভিন্ন স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করে সমুদ্র বা হ্রদে পৌঁছে দেয়।
নদীর এই নকশা তৈরির পেছনে রয়েছে এক বিশেষ গাণিতিক নিয়ম। ১৯৫৭ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী জন হ্যাক আবিষ্কার করেন যে, নদীর দৈর্ঘ্য এবং এর পানি নিষ্কাশন এলাকার আয়তনের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। গাণিতিকভাবে এটি হ্যাকের সূত্র নামে পরিচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, নদীর দৈর্ঘ্য সাধারণত এর পানি নিষ্কাশন এলাকার আয়তনের ০.৬ ঘাতের সমানুপাতিক। যদিও তাত্ত্বিকভাবে এটি ০.৫ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে নদী প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত হারে বাড়ে।
এমআইটির ভূ-পদার্থবিদ ড্যানিয়েল রথম্যান ব্যাখ্যা করেছেন, বড় নদীর অববাহিকাগুলো সাধারণত লম্বা ও সরু হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, নদী এমন পথ বেছে নেয় যাতে পানি সরাতে সবচেয়ে কম শক্তির অপচয় হয়। এই প্রক্রিয়াটি কোনো প্রকৌশলী বা বিবর্তনের ফল নয়, বরং মহাকর্ষ ও ভূমিক্ষয়ের মতো প্রাকৃতিক শক্তির মাধ্যমে হাজার হাজার বছর ধরে তৈরি হয়েছে। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক তিয়ান ডং দেখিয়েছেন, নদীর শাখা-প্রশাখা ছাড়াও ব-দ্বীপ বা ডেলটার ক্ষেত্রেও এই একই গাণিতিক নিয়ম কার্যকর। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের নদীবিজ্ঞানী ক্রিস পাওলার মতে, নদীর এই দৃশ্যমান বিশৃঙ্খলার মাঝে লুকিয়ে থাকা শৃঙ্খলা ও গাণিতিক সৌন্দর্যই একে অনন্য করে তোলে।
নদীর নকশা কি কেবলই এলোমেলো নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো গাণিতিক নিয়ম? বিজ্ঞানী জন হ্যাকের সূত্র এবং নদীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার রহস্য নিয়ে বিস্তারিত জানুন।


0 Comments