লক্ষ্মীপুরের চরবাদাম ইউনিয়নে মেম্বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন আনোয়ার নামের এক ব্যবসায়ী। নির্বাচনী প্রচারণার ব্যয় মেটাতে পৈত্রিক জমি ও পারিবারিক পুকুর বন্ধক রাখায় এখন সেই পুকুরে মাছ ধরার অধিকার হারিয়েছে তার পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার জমিদারহাট বাজারে মুদি ব্যবসার মাধ্যমে একসময় বেশ সচ্ছল ছিলেন। তবে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চরবাদাম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে প্রার্থী হওয়ার পর তার আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে জরুরি অর্থের প্রয়োজনে তিনি প্রতিবেশী ফারুকের কাছে উত্তরের ডগির জমি ও বাড়ির সামনের পুকুরটি বন্ধক রাখেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত পুকুরে মাছ চাষ ও আহরণের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ফারুকের হাতে।
নির্বাচনে মাত্র ৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর আনোয়ার ব্যবসায়িক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। আনোয়ারের বাবা নুরু মিয়া জানান, সয়াবিন চাষে লোকসান এবং ঋণের বোঝা বাড়তে থাকায় তারা বন্ধক রাখা জমি ও পুকুর উদ্ধার করতে পারছেন না। এমনকি নুরু মিয়ার নাতি আল-আমিন পুকুরে মাছ ধরতে গেলে পাওনাদার ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে গিয়ে আনোয়ারের এই আর্থিক সংকট পুরো পরিবারকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। নিজের শ্রমে কেনা পুকুরে অন্যের আধিপত্য দেখে নুরু মিয়া ও তার পরিবার এখন কেবল ঋণমুক্ত হয়ে হারানো সম্পদ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী হতে গিয়ে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন এক ব্যবসায়ী। নির্বাচনী খরচ মেটাতে নিজের পুকুর বন্ধক রাখায় এখন সেখানে মাছ ধরার অধিকার হারিয়েছে তার পরিবার।


0 Comments