তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দলবিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল সোমবার শীর্ষ আদালতে করা আবেদনে তিনি এই সংসদ সদস্যদের পদ বাতিলের অথবা লোকসভায় তৃণমূলের জন্য নির্ধারিত আসনে তাঁদের ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েও এই ২০ জন সংসদ সদস্য অন্য একটি দলে যোগ দিয়েছেন এবং লোকসভায় আলাদাভাবে বসছেন। তাঁর মতে, এভাবে দল পরিবর্তন করার পর তাঁদের সংসদ সদস্য পদ বহাল রাখার কোনো আইনি সুযোগ নেই। লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সদস্যের মধ্যে ২০ জনই বিদ্রোহ করে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) নামক নতুন একটি দলে যোগ দেওয়ার দাবি করেছেন।
এর আগে এই সংসদ সদস্যরা লোকসভায় আলাদাভাবে বসার জন্য স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন করেছিলেন। স্পিকার তাঁদের আলাদা বসার অনুমতি দিলেও এনসিপিআইয়ের সদস্য হিসেবে এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেননি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৯ জুন থেকে কয়েক দফায় স্পিকারের কাছে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানালেও কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে এই মামলা করার অনুমতি দেয়।
তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ সংকটের মূলে রয়েছে সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। নির্বাচনে বিজেপি ২০৮টি আসনে জয়লাভ করে এবং তৃণমূল মাত্র ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকে। এরপরই দলের ভেতরে অস্থিরতা শুরু হয়। বিধানসভাতেও তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৭০ জন বিদ্রোহ করে আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেন, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব পরবর্তীতে লোকসভাতেও পড়ে।
তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহী সংসদ সদস্যের পদ বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলবিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের নির্ধারিত আসনে বসানোর দাবি জানানো হয়েছে।


0 Comments