স্পেনের ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের উৎসবে এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম দিলেন তরুণ ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল। ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে এবং শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে মাঠে হাঁটু গেড়ে দোয়া করতে দেখা যায়। মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বজয়ের ইতিহাস গড়া এই ফুটবলারের এমন আচরণের পেছনে রয়েছে তার দাদি ফাতিমা নাসরাউইয়ের গভীর প্রভাব। ফাতিমা নাসরাউই, যাকে অনেকে ফাতিমা রোমানি নামেও চেনেন, তিনি ইয়ামাল পরিবারের প্রধান অভিভাবক ও শক্তির উৎস হিসেবে পরিচিত।
ফাতিমা জানান, তিনি সবসময় তার নাতিকে খেলার আগে ও পরে আন্তরিকভাবে দোয়া করার শিক্ষা দিয়েছেন। ইয়ামালও দাদির সেই নির্দেশ নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। এই সংগ্রামী নারীর জীবন ছিল ত্যাগে ভরা। বহু বছর আগে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় মরক্কো থেকে একাই স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কাতালোনিয়ার মাতারো শহরে পৌঁছান ফাতিমা। সেখানে ভাষা না জানা সত্ত্বেও শরণার্থী শিবির ও পরিচর্যাকারী হিসেবে দিনে তিনটি শিফটে কাজ করে অর্থ সঞ্চয় করেন। সেই টাকা দিয়ে তিনি নিজের সন্তানদের মরক্কো থেকে স্পেনে নিয়ে আসেন, যাদের মধ্যে ইয়ামালের বাবা মুনিরও ছিলেন।
ইয়ামালের বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে দাদি ফাতিমার কাছেই বেড়ে ওঠেন তিনি। রোকাফোন্দা এলাকায় বড় হওয়া ইয়ামালকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে ফাতিমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গোল করার পর ইয়ামাল আঙুল দিয়ে '৩০৪' চিহ্ন প্রদর্শন করেন, যা তার এলাকার পোস্টাল কোড ০৮৩০৪-এর শেষ তিনটি সংখ্যা। এটি মূলত তার দাদি ও এলাকার প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক। দাদির ত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ইয়ামাল তার ক্যারিয়ারের প্রথম দিকের আয়ের বড় অংশ দিয়ে তাকে একটি আধুনিক ও আরামদায়ক বাড়ি উপহার দিয়েছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর মাঠে লামিনে ইয়ামালের দোয়া করার দৃশ্য নজর কেড়েছে সবার। এর পেছনে রয়েছে তার দাদি ফাতিমা নাসরাউইয়ের শিক্ষা ও সংগ্রামের গল্প। পরিবারের প্রতি এই শ্রদ্ধা এক অনন্য উদাহরণ।


0 Comments