বাণিজ্য সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে সরাসরি ভোটের বাধ্যবাধকতা শিথিল করে 'বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা-২০২৫' সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। নতুন এই খসড়া অনুযায়ী, দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সংখ্যা ৪৬ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নতুন করে দুটি সহসভাপতির পদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া কোনো ব্যবসায়ীর একাধিক সদস্যপদ থাকলেও তিনি নির্বাচনে একটির বেশি ভোট দিতে পারবেন না।
মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই খসড়ায় বলা হয়েছে, সংগঠনের সভাপতি ও সহসভাপতিসহ সব পদে সরাসরি ভোটের বাধ্যবাধকতা থাকছে না। এখন থেকে সংগঠনের নিজস্ব সংঘবিধি ও সংঘস্মারক অনুযায়ী ভোটাধিকার ও নেতৃত্ব নির্ধারণ করা যাবে। এছাড়া বার্ষিক চাঁদা নির্ধারণের ক্ষমতা পুনরায় বাণিজ্য সংগঠনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ পরিষদের সদস্যদের নিবন্ধন ফি ২০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন শ্রেণির চেম্বারের বার্ষিক চাঁদার হার কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে খসড়া বিধিমালায়।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, তাদের চাওয়া অনুযায়ী সংশোধনীগুলো খসড়ায় এসেছে এবং এটি দ্রুত চূড়ান্ত হলে নির্বাচনে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি আবুল কাসেম হায়দার মনোনীত পরিচালক প্রথা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, সরকার কর্তৃক মনোনীত পরিচালক চূড়ান্ত করার বিধান সংগঠনের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করবে এবং এতে পদ কেনাবেচার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি মনোনীত প্রথার বদলে সরাসরি ভোটের দাবি জানান।
বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। এফবিসিসিআইয়ের পর্ষদ বৃদ্ধি ও সরাসরি ভোটের বাধ্যবাধকতা শিথিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।


0 Comments